
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকার দোহারে অটোরিক্সার লোভে ইয়াসিন মিয়া (২২) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই বন্ধু সোহাগ (২৮) এর বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে নিকড়া প্রেমতলা এলাকায় তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। রাতেই ঘাতক সোহাগকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকালে দোহার থানা পুলিশ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
নিহত অটোরিক্সা চালক ইয়াসিন মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিল্লাল মিয়ার ছেলে। পরিবার নিয়ে তিনি জুরাইন ভাড়া থাকতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে জুরাইনে ইয়াসিন ও সোহাগের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়। পওে সোহাগ জুরাইন থেকে এসে দোহারের খাড়াকান্দার মো. মোকলেস এর গ্যারেজে কাজ নেন। শনিবার রাতে সোহাগ জুরাইন গিয়ে ইয়াসিনের সঙ্গে দেখা করে এবং রাতে একসাথে ছিলেন। পরদিন সকালে ইয়াসিনের নতুন অটোরিকশা নিয়ে দু’জন দোহারে আসে এবং সারাদিন একসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে। সন্ধ্যায় নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য সোহাগ পরিকল্পিতভাবে ইয়াসিনকে নিকড়া প্রেমতলা এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ইয়াসিন নেশায় ক্লান্তি ও ঘুম ঘুম এলে সোহাগ সুযোগ বুঝে ছুরি দিয়ে ইয়াসিনের গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এ ঘটনার পর ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে সোহাগই আহত ইয়াসিনকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধার করে এবং দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। হাসপাতালে ঘাতক সাবলিলভাবে ইয়াসিনকে উদ্ধারের বর্ণনাও দেন পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে।
খবর পেয়ে ইয়াসিনের পরিবার থানায় এলে ঘটনার অন্যদিকে মোড় নেয়। তারাই জানান, নিহত ইয়াসিন ও সোহাগ দুই বন্ধু। তারা সকালে জুরাইন থেকে একসাথেই বের হয়েছে। পরে দোহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ঈশানের নেতৃত্বে দোহার থানা টিম তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাত্র সাত ঘন্টার মধ্যেই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করেন এবং আসামি সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আলী হাসান জানান, ঘাতক সোহাগের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সে হত্যায় দায় স্বীকার করেছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।